বুধবার, ২৫ জুলাই, ২০১৮

বঙ্গাব্দ-খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ-খ্রিস্টাব্দ 

 বঙ্গাব্দ-খ্রিস্টাব্দ



বিনামূল্যে ফন্ট ডাউনলোড লিংক--
অহনলিপি-বাংলা১৪ ইউনিকোড ফন্ট প্যাকেজ ডাউনলোড লিংক:  

অথবা 

https://sites.google.com/site/ahanlipi/ 



ডাউনলোড করা এই ইউনিকোড ফন্ট প্যাকেজের মধ্যে আছে ইউনিকোড ফন্ট(কম্পিউটারে লেখার হরফসমূহ) AhanLipi-Bangla14.ttf , তার উপরে ক্লিক করলে ফন্ট ইনস্টল হয়ে যাবে৤ সঙ্গে কিবোর্ড(setup.exe) দেওয়া আছে৤ তাতে ক্লিক করলে কিবোর্ড ইনস্টল হয়ে যাবে৤ কিবোর্ড দিয়ে সহজে লিখতে পারবেন৤ 

 যুক্তবর্ণ স্বচ্ছ, সহজ৤ সঙ্গে কিবোর্ডের নক্সা দেওয়া আছে৤ 


অন্যান্য ফন্টও ডাউনলোড করে নিন৤ 


এই ফন্ট না হলে লেখার উদ্দেশ্য বোঝা যাবে না৤

২৪/০৭/২০১৮ মঙ্গলবার

বঙ্গাব্দ-খ্রিস্টাব্দ
মনোজকুমার দ. গিরিশ

       বাংলা বছরের হিসেবকে বলা হয় বঙ্গাব্দ, এবং খ্রিস্টীয় বছরের হিসেব হল খ্রিস্টাব্দ৤ বঙ্গ অব্দ(বছর)-- বঙ্গাব্দ, খ্রিস্ট অব্দ(বছর)-- খ্রিস্টাব্দ৤ অনেক লেখাতে দেখা যায় অমুক সাল, বা অমুক সন৤ এতে নির্দিষ্ট করে বছর বোঝানো হয় ঠিকই, কিন্তু সেটা বঙ্গীয় বছর, নাকি তা খ্রিস্টীয় বছর, তা নিয়ে মনে দ্বিধা দেখা দেয়৤ বিশেষ করে তা যদি বেশ পুরানো দিনের উল্লেখ হয়৤ কেউ কেউ আবার ইংরেজি  তারিখকেও আনমনে সাল, বা সন বলেন, এতে বাংলা বছরের সঙ্গে তা গুলিয়ে যায়৤
       তাই এ ব্যাপারে স্পষ্ট হবার জন্য সাল, সন না লিখে সেটা বঙ্গাব্দ বা খ্রিস্টাব্দ তা স্পষ্ট করে লেখাই ভালো৤
       আর একটি কথা আমাদের ব্যবহারিক জীবনে বঙ্গাব্দের চলন নেই৤ তাই বঙ্গাব্দ লিখলে সেটা যে কোন্‌ খ্রিস্টাব্দ তা পাশে লিখে দিলে বুঝতে সুবিধে হয়৤ এতে সময়ের হিসেবটা আরও স্পষ্ট হবে৤ নয়তো শুধু বঙ্গাব্দ লিখলে সেটা প্রায় রহস্যের আড়ালে চলে যায়৤ বাংলায় সর্বাধিক প্রচারিত সংবাদপত্র আঃবাঃ সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় শুধু বঙ্গাব্দ ব্যবহার করলেও লোকে অন্য পৃষ্ঠা খোঁজেন ইংরেজি তারিখটা জেনে নিতে৤ নয়তো নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলেন, পথভ্রান্তি ঘটবে বলে যেন হতাশ হন৤

       বাংলা বছর হল আসলে ফসলী সন, কারণ মুসলিম বছর যেহেতু চান্দ্র মাস অনুসারে গণনা করা হয়, তাই ফসলের মাধ্যমে খাজনা আদায়ে সমস্যা হত, তাই আকবরের কালে হিজরি সন থেকে বঙ্গাব্দের সূচনা হয়(৯৯২হিজরি=১৫৮৪খ্রিঃ)৤ এতে খাজনা আদায়ে সুবিধে হল, কারণ বঙ্গাব্দ হল সৌর সন তাই বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ফসলের মাধ্যমে খাজনা আদায়ে সুবিধে হল৤
       ৬২২খ্রিস্টাব্দ থেকে হিজরি তথা বঙ্গাব্দের সূচনা ধরা যায়৤ “এই বৎসর বিশ্বনবী হজরত মুহম্মদ(দঃ) কুরাইশদের অত্যাচারে জন্মভূমি মক্কা থেকে মদিনাতে আশ্রয় নেন৤ এই গমনকে আরবিতে ‘হিজরত’ বলা হয়৤ হিজরতের স্মৃতি রক্ষার্থে সনের প্রচলন হয় বলে একে হিজরি সন বলা হয়৤ হিজরতের ৯৯৩(হিজরি) বছর পরে দিল্লির সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেন৤ সম্রাটের সিংহাসনে আরোহণের স্মৃতির  সংগে যুক্ত করে বাংলা সনের প্রতিষ্ঠা করা হয়৤”(বাংলা সনের জন্মকথা, মুঃ আবু তালিব, বাংলা একাডেমী, ঢাকা)৤
       নতুন বছরের শুরুতে যদিও হালখাতা ইত্যাদি অনেক হিন্দু আচরণের ব্যাপার থাকে, হিসেবটি কিন্তু প্রকৃত পক্ষে মুসলমানী ‘সৌর’ বছর৤ এর মধ্যে উভয় সংস্কৃতির মিলন আছে ৤

       জাতিটা বাঙালি, তাদের কারও ধর্ম ইসলাম, কারও হিন্দু, কারও খ্রিস্টান, কারও বৌদ্ধ৤ যার যেমন ধর্মবিশ্বাস, সে তেমন ধর্মী, তাতে জাতীয়তার হেরফের হয় না৤ ভাষা হল মানুষের জাতি পরিচয়, আত্মপরিচয়৤ ধর্ম মানুষের জাতিপরিচয় নয়৤

       বাঙালিদের প্রধান ধর্মীয় বিভাগ চারটি -- মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ৤ প্রথমে মুসলমানের উল্লেখ করা হল এই কারণে যে তারা সংখ্যা গরিষ্ঠ, তার পরে হিন্দু, তারপরে খ্রিস্টান, শেষে বৌদ্ধ৤ এটা হল সংখ্যানুক্রমিক তালিকাকরণ৤
       বঙ্গীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপরে এই চারটি ধর্মের প্রভাব কী রকম, তা বিচার করলে দেখা যাবে--
       বৌদ্ধ-- প্রাচীন বাংলা ছিল বৌদ্ধ, সেই পাল রাজাদের আমলে পুরো বাংলাই ছিল বৌদ্ধ, পাল রাজারাও ছিলেন বৌদ্ধ৤ সেই সময়কালেই বাংলা ভাষার জন্ম বা উদ্ভব হয়৤ তা হলে বলা যায় যে, ধর্মীয়ভাবে বৌদ্ধদের অবদান হল বাংলা ভাষার সৃজন৤  

       মুসলমান-- হিজরি সন অনুসারে ফসল দিয়ে খাজনা আদায়ে সমস্যা হত বলে সেই সনকে সৌর সনে রূপান্তরিত করায় খাজনা আদায়ে সুবিধে হয়৤ এই সৌর হিজরি সনই হল বঙ্গাব্দ৤ তাহলে ধর্মীয়ভাবে মুসলিম অবদান হল বছর গণনা৤

       খ্রিস্টান-- পাশ্চাত্য ধর্ম হল খ্রিস্ট ধর্ম৤ তারা এদেশে আসায় এখানে খ্রিস্ট ধর্মের প্রচার হয়ছে, এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রভাবে বঙ্গীয়রা ক্রমে আধুনিকতার আলোয় আলোকিত, উদ্ভাসিত হয়েছে৤ তাই ধর্মীয়ভাবে খ্রিস্ট ধর্মের অবদান হল আধুনিকতা৤

       হিন্দু-- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষ ছিলেন পতিত ব্রাহ্মণ, পিরালি বামুন৤ পরে তাঁর পিতা ও অন্যরা মিলে ব্রাহ্ম ধর্মের অবতারণা করেন, তাই রবীন্দ্রনাথকে ব্রাহ্ম বলা হলেও তিনি আসলে হিন্দুই, অবশ্য পতিত(ব্রাহ্মণ) হিন্দু! (যে-কারণে তাঁকে জীবনে অশেষ হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে)৤ তাই ধর্মীয়ভাবে হিন্দুদের অবদান হল বিশ্ব সম্মান, বিশ্ব পরিচিত-- সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ(১৯১৩)৤ এখন অবধি ভারতীয় অন্য কোনও ভাষা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পায়নি৤ অমিত প্রতিভাধর রবীন্দ্রনাথ ভারতের পরাধীনতার অন্ধকার আমলেই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, যা ছিল ইউরোপের বাইরেই সাহিত্যে প্রথম নোবেল প্রাপ্তি৤  

       বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির সমগ্র পরিমণ্ডল কোনও একক ধর্মীয় অবদান নয়, সামগ্রিক সম্মিলিত অবদান৤ তাই বাংলার কোনও প্রকার বিপন্নতা সকল বাঙালিকেই চিন্তিত,  উদ্বিগ্ন করে৤বাংলার পুব অংশে তাই হয়েছে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’, হয়েছে “বাংলাদেশ”, আসামে হয়েছে বাংলাভাষার মান রাখতে একাদশ শহিদের প্রাণদান, যে তালিকায় আছে নির্ভীক তরুণীও৤ মাগো, সবাইকে মানুষ কর মা!   
       আপামর বাঙালি-- প্রাণউৎসর্গকারী ভাষাশহিদদের প্রতি আভূমি সেলাম জানায়৤ 







সোমবার, ২৮ মে, ২০১৮

বাংলাবিদ্যা আলোচনা

বাংলাবিদ্যা আলোচনা


 বাংলাবিদ্যা আলোচনা





বিনামূল্যে ফন্ট ডাউনলোড লিংক--
অহনলিপি-বাংলা১৪ ইউনিকোড ফন্ট প্যাকেজ ডাউনলোড লিংক:  

অথবা 

https://sites.google.com/site/ahanlipi/ 




ডাউনলোড করা এই ইউনিকোড ফন্ট প্যাকেজের মধ্যে আছে ইউনিকোড ফন্ট(কম্পিউটারে লেখার হরফসমূহ) AhanLipi-Bangla14.ttf , তার উপরে ক্লিক করলে ফন্ট ইনস্টল হয়ে যাবে৤ সঙ্গে কিবোর্ড(setup.exe) দেওয়া আছে৤ তাতে ক্লিক করলে কিবোর্ড ইনস্টল হয়ে যাবে৤ কিবোর্ড দিয়ে সহজে লিখতে পারবেন৤ 

 যুক্তবর্ণ স্বচ্ছ, সহজ৤ সঙ্গে কিবোর্ডের নক্সা দেওয়া আছে৤ 


অন্যান্য ফন্টও ডাউনলোড করে নিন৤ 


এই ফন্ট না হলে লেখার উদ্দেশ্য বোঝা যাবে না৤

বাংলাবিদ্যা আলোচনা
মনোজকুমার দ. গিরিশ

      ইংরেজি লেখার রোমান হরফ অতি সরল৤ বিশেষকরে বড় হাতের হরফ বা ক্যাপিটাল লেটার এত সরল যে সারা পৃথিবীর সকল ভাষার মানুষের এ ব্যাপারে আগ্রহ আছে, এবং আগ্রহ ক্রমে বাড়ছে৤
      মুখে ভাষা যখন বলা হয়, তখন শুনে শুনে তা বুঝতে হয়৤ বাংলা, ইংরেজি সব ভাষাই তাই৤ তাহলে ইংরেজি মাধ্যমের বাঙালি শিশু কেন বলে, ওঃ! বাংলাটা কী কঠিন? সে কিন্তু চিন্তাভাবনা করছে বাংলাতেই৤ যে ভাষায় মানুষ তার স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা করে সেটাই তার মাতৃভাষা৤ তবুও মাতৃভাষা বাংলাটা তার কঠিন লাগছে, বিমাতৃভাষা ইংরেজিটা কঠিন নয়৤ কেন নয়? এমন কাণ্ড কেন হয়, রহস্যটা কী?
      সেই অনুসন্ধানেই খুঁজে পাওয়া যাবে এর কাঠিন্যের সুত্রটি৤
      বাংলা যে কঠিন তার কারণ লুকিয়ে আছে তার জটিল লিখন প্রক্রিয়া বা লিখনকারিগরির মধ্যে৤ ভাষার কাঠিন্য মুখে উচ্চারিত বাক্য ব্যবহারে নয়, তার কাঠিন্য লিখন সূত্রে৤ এখন তো শোনা যাচ্ছে বাংলাই পৃথিবীর মধুরতম ভাষা৤ কঠিন ভাষা মধুরতম হবে কেমন করে? নিশ্চয়ই কোথাও লুকানো সমস্যা আছে৤ সেটা খুঁজে বার করতে হবে৤
      সমস্যাটা কোথায়? সমস্যাটা আছে বাংলার লিখন করিগরিতে৤ স্বর চিহ্ন হল স্বরবর্ণের প্রতীক৤ লেখার সময়ে সাথী বর্ণের সঙ্গে স্বরবর্ণকে সরাসরি ব্যবহার না করে তার প্রতীক ব্যবহার করা হয়, সে গুলিই স্বরচিহ্ন, আর সেই প্রতীক চারিদিক থেকে হরফকে ঘিরে বসে৤ আর ব্যঞ্জনচিহ্ন তথা ফলা সাথী বর্ণকে একইভাবে ঘিরে বসে৤ ফলে তা হরফের ডান-বাম, উপর-নিচ ঘিরে রাখে৤ ১০টি স্বরচিহ্ন, আর ৮টি ফলা, এই মোট ১৮টি ব্যবহার্য চিহ্ন, কিন্তু এদিকে হরফের মোটে চারটি দিক, তার এতগুলি দিক তো আর থাকতে পারে না৤ হরফের আরও বেশি দিক থাকলে তাও এ সব চিহ্ন ঘিরে রাখত৤
      এসবের প্রতিকার করতে হবে৤ তবে তা একদিনে হবে না, ৫০ বছর ধরে একটু একটু করে এগিয়ে খানিকটা হবে৤ ইংরেজিতে আলাদা করে স্বরচিহ্ন বা ব্যঞ্জনচিহ্ন নেই৤ বাংলা লেখায়ও স্বরচিহ্ন এবং ব্যঞ্জন চিহ্ন রহিত করতে হবে৤ ১০০ বছর ধরে একপা একপা করে এগোতে এগোতে তা হতে পারবে৤ তখন বাংলা লেখাও হবে ইংরেজির মতো হরফ পাশাপাশি পর পর বসিয়ে অনায়াস লেখা৤
      বাংলার সবচেয়ে কঠিন লিখনপর্যায় হল, যুক্তবর্ণ তথা যুক্তব্যঞ্জন৤ ১১টি স্বরবর্ণের ১০চিহ্ন, এবং ণ ন ম য র(র-ফলা, এবং রেফ), ল ব-- এই ৭টি ব্যঞ্জনের ৮টি ফলারূপ কোনওক্রমে আত্মস্থ হলেও বাংলায় প্রচলিত ৩৯৫টি যুক্তবর্ণ অসাধ্য৤  
      কাজ হল এই ৩৯৫ যুক্তবর্ণের দলা ছাড়িয়ে তাকে স্বচ্ছ করা৤ ষ৏  ধরণের মণ্ড হরফ বিশেষ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ এবং স্পষ্ট ‘ষ্ন’ করা৤ শিক্ষার্থী আর ভুল করে ভাববে না যে, এটি ষ+ঞ=ষ৏ ৤ সকল যুক্তবর্ণকে যদি স্বচ্ছ স্পষ্ট করা যায় তবে বাংলার কাঠিন্য ৯০ ভাগই কমে যাবে৤ ল্যাজে গোবরে অবস্থা তো সব এখানেই৤
      তবে চাইলেই কী হবে? এতকালের বিকৃত অভ্যেস, যাকে আমরা সঠিক বলেই জানি, তার গায়ে হাত পড়লে, হাতাহাতি হয়ে যাবে৤ সমাজ সংস্কার-উদ্যোগের জন্য বিদ্যাসাগরকে প্রবাসে তাড়ানো হয়েছিল-- অধিগত বিদ্যাকে, ঐতিহ্যকে যে ব্যাহত করবে তার কী হবে?
      বাংলা বানান এবং লেখা নিয়ে এত যে মতান্তর তার মূল কারণটি রবীন্দ্রনাথ স্পষ্ট করেই বলেছেন__ “একবার যেটা অভ্যাস হইয়া যায় সেটাতে আর নাড়া দিতে ইচ্ছা হয় না৤ কেননা স্বভাবের চেয়ে অভ্যাসের জোর বেশি৤...অভ্যাসের সঙ্গে সঙ্গে একটা অহংকারের যোগ আছে৤ যেটা বরাবর করিয়া আসিয়াছি সেটার যে অন্যথা হইতে পারে এমন কথা শুনিলে রাগ হয়৤ মতের অনৈক্যে রাগারাগি হইবার প্রধান কারণই এই অহংকার৤”
      এমন ছাতাধরা বিকৃত ব্যবস্থাকে সংস্কার করলে নবীন প্রজন্ম কিন্তু আমার পক্ষে দাঁড়াবে৤ প্রবীণ প্রজন্মকে তারা বরং কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে-- ১৤মাতৃ ভাষাকেও বিমাতৃভাষার চেয়ে কঠিন করে রাখার জন্য, ২৤লিখন কারিগরি জটিল এবং বিকৃত জেনেও কেন তা সরল করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কঠিন কষ্ট থেকে উদ্ধার করা হয়নি, ৩৤অকারণ সময় নষ্ট, শ্রম নষ্ট, অকাজে মেধার ব্যয় রোধ করেননি, ৪৤বিদেশিরা অবধি বাংলা লেখাকে সরল করতে প্রস্তাব দিলেও কেন তারা নড়ে বসেননি, ৫৤বিদেশিদের আমল দেওয়া হয়নি, তাঁরা বিদেশি, সেজন্য বাংলা লেখাকে তাঁরা যথেষ্ট বিকৃত করতে পারেননি বলে? ৬৤লেখা তো অভ্যাসের ব্যাপার, প্রাকৃতিক নিয়ম নয়, তাহলে তা সংশোধন করতে বাধা কীসের, ৭৤বাংলা ছাপা শুরু হয় বিদেশি ইংরেজদের হাতে ১৭৭৮-এ, সেখানে ছাপার লেখায় যে লজিক ছিল, তা রক্ষা করা হয়নি, ৮৤শিক্ষা কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার এই প্রয়াস কেন?
      

এই মুহূর্তে যুক্তবর্ণসমূহ আগে স্বচ্ছ করা হবে, চালু স্বরচিহ্ন পরে লোপ করা হবে(কারণ স্বরচিহ্ন আয়ত্ত করা কিছুটা সহজ)৤ এখন বাংলায়ও আধুনিক ইউনিকোড ফন্ট(কম্পিউটারে লেখার হরফ সমূহ) তৈরি হয়েছে৤ কিন্তু সেই ইউনিকোড ফন্ট হল প্রথম প্রজন্মের ফন্ট৤ বাংলা দ্বিতীয় প্রজন্মের ফন্ট হল-- আরও অগ্রগত ইউনিকোড ফন্ট৤ নতুনতর এই প্রস্তাবিত ফন্টটি হবে দ্বিতীয় প্রজন্মের লিখন কারিগরি সম্পন্ন৤ এতে দলাপাকানো যুক্তবর্ণ বা মণ্ড হরফ নেই৤ বাংলা যুক্তবর্ণ গঠনের দুটি নির্দিষ্ট সূত্র বা ফর্মুলা তৈরি হয়েছে, যা সকল যুক্তবর্ণকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে গঠনে সহায়তা করবে৤ 
c1c2-- ক্ক, চ্ছ, জ্জ, ট্ট, ড্ড, ণ্ণ, ত্ত, দ্দ, দ্ধ, ন্ন, প্স, ফ্ল, ভ্ল, ম্ল, 
শ্ম, ষ্ট, স্প, হ্ন  
  
c1c1c2-- ক্ষ্ণ, ক্ষ্ম, ঙ্ক্ষ, চ্ছ্ব, জ্জ্ব, ত্ত্ব, দ্দ্ব, দ্ধ্ব, ন্ত্ব, ন্দ্ব, ষ্ক্ব, স্ত্ব, স্প্ল  




      এখানে C  হল Consonant বা ব্যঞ্জনবর্ণ৤ c1 হল যুক্তবর্ণের প্রথম বর্ণ,  c2 হল যুক্তবর্ণের দ্বিতীয় বর্ণ৤ প্রথম এবং দ্বিতীয়, দুটি বর্ণই অখণ্ড, অক্ষত, অবিকৃত থাকবে, তবে প্রথম বর্ণটি হবে আয়তনে কিছুটা ছোটো, আর দ্বিতীয় বর্ণটি যথাযথ পূর্ণ মাপের৤ প্রথমটি তথা c1 হবে দ্বিতীয় তথা c2 বর্ণের ২/৩ ভাগ৤ দুটি বর্ণই মাত্রা বরাবর লেখা হবে, অর্থাৎ একই মাত্রায় দুটি বর্ণের অবস্থান হবে৤
      বাংলায় যুক্তবর্ণ হয় (১)দুই বর্ণ মিলে, (২)তিন বর্ণ মিলে, এবং (৩)চার বর্ণ মিলে৤ তবে চার বর্ণের মিলন প্রকৃতপক্ষে তিন বর্ণেরই হেরফের৤ চার বর্ণের বেশি বর্ণ মিলে বাংলায় যুক্তবর্ণ হয় না৤
      এই মুহূর্তে হয়তো ছাপায় এর উদাহরণ দেখানো যাবে না, তবে এর ফন্ট ডাউনলোড করে নিলে তা ব্যবহার করা যাবে৤ ফন্ট প্যাকেজের লিংক:
https://sites.google.com/site/ahanlipi/font-download/AhanLipi-Bangla14.zip  
      এই ফন্টের মধ্যেই আছে তৃতীয় প্রজন্মের লিখন কারিগরি প্রকৌশলও, যেখানে সকল স্বরচিহ্ন সাথী বর্ণের পরে বসবে৤ তবে বানান সংস্কার করে নেওয়ার পরে তার যা অবস্থা দাঁড়াবে, লেখালিখি হবে সেই অনুসারে৤ যুক্তবর্ণ হবে দ্বিতীয় প্রজন্মের লিখন কারিগরির মতোই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ৤
      বাংলা লেখা তিন তলা৤ দ্বিতীয় প্রজন্মেও তা তিন তলাই থাকবে, তৃতীয় প্রজন্মে এসে তা হবে দুই-তলা৤ ৫০ বছর পরে এই কারিগরি ব্যবহার্য৤ তার আগে দ্বিতীয় প্রজন্মের লিখন কারিগরি কৌশলে অভ্যস্ত হয়ে নিতে হবে৤
      বাংলা বানান সংস্কার নিয়ে আমাদের শিথিলতা এতই, যে ‘ঋ, ঌ’ বর্ণ স্বরধ্বনি হিসেবে লুপ্ত হয়েছে বাংলাভাষা জন্মের আগে, তা অবধি আমাদের ভাঁড়ারে রক্ষিত! তবে এ কথাও ঠিক যে দুম করে সব সংস্কার একবারে করলে হবে না৤ ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে করতে হবে, ধাপে ধাপে৤ নইলে বাংলাভাষাই চেনা যাবে না যে!  
      এই একই ফন্টের মধ্যেই আছে চতুর্থ প্রজন্মের লিখন কারিগরি প্রকৌশলও৤ চতুর্থ প্রজন্মের লিখনে স্বরচিহ্ন, এবং ব্যঞ্জনচিহ্ন/ফলা লোপ পাবে৤ যুক্তবর্ণ আগের মতোই স্বচ্ছ হবে৤ লেখা হবে ইংরেজির মতো
এক-তলা (Monotier), এবং হরফ পাশাপাশি পর পর বসিয়ে৤ তবে বানান সংস্কার করে নেওয়ার পরে তার যা অবস্থা দাঁড়াবে, লেখালিখি হবে সেই অনুসারে৤ লেখা এক-তলা হবার ফলে হরফের মুদ্রণ খাড়াই বাড়বে, মুদ্রণ-স্থান কম লাগবে, ফলে মুদ্রণ ব্যয় কম-- বইয়ের দাম কমবে প্রথম প্রজন্নের লিখনের তুলনায় ৪০%চল্লিশ শতাংশ৤

      এখানে বানান সংস্কার করা হয়েছে, বাংলা লেখা তখন হবে সকল সংস্কারমুক্ত, বাধামুক্ত৤ সেইলক্ষ্যে এগোতে হবে৤ এর প্রয়োগ হবে ১০০ বছর পরে৤ আগে ২য়, এবং ৩য় প্রজন্মের লিখনে রপ্ত হবার পরে৤
      ফন্ট প্যাকজে দেওয়া আছে-- ফন্ট, কিবোর্ড, এবং অন্য সকল প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা৤ উল্লেখ্য দ্বিতীয় প্রজন্মের লিখন কারিগরিতেই বাংলা লেখা যৌক্তিকভাবে ইংরেজি লেখাকে ছাপিয়ে গেছে৤
দেখুন লিংক:http://banglamoy.blogspot.in/2014/10/blog-post.html

      আমরা যখন বলি-- ‘ব’ তখন সেটা আসলে ব্‌+অ৤ ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণ করতে হলে স্বরধ্বনির সাহায্য চাই৤ ‘ব্‌’ ‘ক্‌’ ধ্বনি বা এরকম যেকোনও ব্যঞ্জনধ্বনি কঠিন উচ্চারণের ধ্বনি৤ সকল ব্যঞ্জনবর্ণেরই উচ্চারণ দাঁত ভাঙা৤ আর একথা ঠিক যে, ব্যঞ্জনবর্ণধ্বনি স্বাভাবিকভাবে উচ্চারণ করতে হলে যে-কোনও একটি স্বরের সাহায্য নিতেই হয়৤ সেটা অ থেকে ঔ অবধি যেকোনও স্বরধ্বনি হতে পারে৤ তবে সেটা সাধারণভাবে হল ‘অ’ স্বর৤ অন্য সকল স্বরবর্ণের যেমন চিহ্ন আছে, অ-এর কোনও পৃথক বাহ্য চিহ্ন নেই৤ স্বরবর্ণের চিহ্নগুলি বা দ্বিতীয় রূপকে বলে স্বরচিহ্ন, অর্থাৎ স্বরধ্বনির দ্বৈতীয়িক রূপ বা Secondary form. স্বরবর্ণগুলি সরাসরি ব্যঞ্জন বর্ণের সঙ্গে মিলিত না করে তা এক-একটি চিহ্নরূপে সংযুক্ত করা হয়৤ এগুলিই স্বরচিহ্ন৤
স্বরবর্ণ ১১টি তাদের ১০টির বাহ্য চিহ্ন বা প্রদর্শনযোগ্য চিহ্ন আছে, শুধু ‘অ’-এর কোনও বাহ্য চিহ্ন বা প্রদর্শনযোগ্য চিহ্ন নেই৤ ১১টির মধ্যে এই একটির না থাকাই(বা অদৃশ্যভাবে উপস্থিত থাকাই) তার অস্তিত্ব বা অবস্থিতি প্রমাণ করে৤ খেয়াল রাখতে হবে ব্যঞ্জনবর্ণের সহজ উচ্চারণের সুবিধার জন্য ‘অ’-ধ্বনি যোগ হবার এই ব্যবস্থার জন্যই বাংলা বর্ণমালা আসলে সেমি-এ্যালফাবেটিক, আর ইংরেজি বর্ণমালা কিন্তু পূর্ণ এ্যালফাবেটিক৤
অ
আ
ই
ঈ
উ
ঊ
ঋ
এ
ঐ
ও
ঔ

া
ি
ী
ু
ূ
ৃ
ে
ৈ
ো
ৌ
ক
কা
কি
কী
কু
কূ
কৃ
কে
কৈ
কো
কৌ
     
তাই, ব্‌+অ-কার=ব+♥=ব,   ব্+ই-কার=ব্‌+ি=বি৤  ব্‌+উ-কার=ব্‌+ু=বু

        ব্‌+অ=ব, এখানে ‘ব’ হল পূর্ণ উচ্চারণ সম্পন্ন বর্ণ৤ অ-এর কোনও নিজস্ব বর্ণচিহ্ন না থাকায় এখানে ‘অ’-এর উপস্থিতি দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে বোঝা যায় না৤ যদি অ-এর চিহ্ন হিসেবে অ=৹ গ্রহণ করা হয়-- ব্‌+অ=ব৹ হয়, তবে তা চোখের সামনে থাকত বলে তার অস্তিত্ব স্পষ্ট হত৤ তা হলে,  লিখতে পারতাম-- ক৹ কা কি কী কু কূ কৃ কে কৈ কো কৌ
      তবে তখন ‘অ’ চিহ্ন আর অদৃশ্য, অন-অনুভব্য থাকত না৤ যদিও দর্শনযোগ্য না থাকলেও তার অস্তিত্ব অবশ্য অনুভব্য, কিন্তু সর্বদা তা খেয়াল থাকে না৤ ফলে তা যে আছে তা মনে না করিয়ে দিলে তা মনে পড়ে না৤ তাহলে কি এবার অ-এর চিহ্ন ব্যবহার করা হবে? যেমন-- ক৹ দ৹ ম৹ চ৹ ইত্যাদি৤ না, তেমন করলে সমস্যা বড়বে ছাড়া কমবে না৤ তখন লেখা এবং ছাপা খুবই জবরজং হয়ে উঠবে৤ লিখতে পড়তে বুঝতে অসুবিধে হবে, তাই অ-এর বাহ্যচিহ্ন নতুন করে প্রদর্শনের দরকার নেই৤
      সব্‌জি=সব্জি, মন্‌দ=মন্দ, খাপ্‌পা=খাপ্পা, জব্‌বর=জব্বর ইত্যাদি লিখতে সর্বত্র হস্‌চিহ্ন ব্যবহার করা সুবিধাজনক হবে না, বরং  ছাপা, লেখা, এবং পড়া জটিল হয়ে উঠবে৤ ঠিক তেমনিভাবে প্রতিটি ব্যঞ্জনে একটি করে অ-চিহ্ন(৹) দেওয়া সুবিবেচনা নয়৤
      যদি লিখি ‘বই’ তবে প্রথম হরফ হল-- ব্‌+অ=ব, এবং তার পরে সাধারণ ‘ই’-স্বরবর্ণ৤ ‘ব’, ‘ই’ বর্ণদুটি পাশাপাশি বসে ‘বই’৤ কিন্তু ‘বি’ লেখার অর্থ  হল-- ব্‌+ই-কার=ব্‌+ি=বি৤ বলা যায় যেন, দুটি বর্ণ মিলে একাত্ম বা দলা পাকানো বর্ণরূপ৤ ‘ব’ এবং ‘ই’ মিলে হয়েছে ‘বি’৤ এখানে ‘ই’ সরাসরি মিলিত না হয়ে তার চিহ্নরূপ ‘ি’ ব্যবহার করা হয়েছে৤ ভবিষ্যতে স্বরচিহ্ন লোপ করে লিখলে তা হবে-- ব্‌+ই= ব্‍ই৤ ই-এর কোনও দ্বৈতীয়িক রূপ বা স্বরচিহ্ন(ি) থাকবে না, কেবল ‘ব্‌’ হবে তার উচ্চারণের মতোই লঘু আয়তনের-- ব্‍ই৤ কি=ক্‍ই, পি=প্‍ই৤
      এটা কিন্তু ‘বই’ নয়, এটা ‘বি’(ব্‍ই)৤ ব-এর ব্যঞ্জনান্ত উচ্চারণ এবং তারপরে ই-ধ্বনি-- ব্‍ই৤ এই উচ্চারণই আমরা করি ‘বি’ লিখে (ব্‌ি--ব্‌ই)৤ এখানে লেখার কৌশলটি শুধু আলাদা, বিষয় সম্পূর্ণ একই(ব্‍ই)৤ ব-এর উচ্চারণ লঘু বা ব্যঞ্জনান্ত তাই তার গঠনও লঘু, লেখায় সেটা প্রকাশিত, পুরানো কায়দা -- বি, নতুন ব্যবস্থায়=ব্‍ই৤
      আবার গন্ধ=গন্‌ধ=গন্ধ৤ এখানে ‘ন্‌’ হল অ-বর্জিত ব্যঞ্জনধ্বনি৤ সেটি পূর্ণ বর্ণ ‘ধ’-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছে৤ তাই তা-- গন্‌ধ=গন্ধ(গন্ধ)৤ এটি আরও স্পষ্ট হয় যদি লেখা হয়-- গ৹ ন্‌ ধ৹৤ গ৹ন্‌ধ৹=গ৹ন্ধ৹৤  
      যদি ‘অ’-এর বাহ্য-চিহ্ন ব্যবহার করা হয় তবে অল্প কিছু সমস্যা কমবে ঠিকই, কিন্তু সমস্যা বাড়বে অনেক বেশি৤ তাই অ-এর বাহ্যচিহ্ন প্রয়োগ করে লাভ নেই৤
      যদি লিখি ব৹ই তবে এটা যে বই, তা বেশ বোঝা গেল, কিন্তু ‘বি’ লিখতে গিয়ে তা কি হবে-- ব৹ি৤ তাই পুরানো স্বরচিহ্ন বা স্বরবর্ণের দ্বৈতীয়িক রূপ বর্জন করে লেখা হল-- ব্‍ই(এর বিকৃত চালু রূপ হল ‘বি’)৤ এটা কিন্তু ব্‍৹ই নয়৤ এখানে ব-ধ্বনি অ-কারান্ত নয়, ব্যঞ্জনান্ত-- ব্‍ই(ব্‌-ই)৤  
      প্রাথমিক ব্যবহারে এটা খুবই অসুবিধাজনক মনে হবে, তাই এটি ৪র্থ প্রজন্মের লিখন, আর তা লেখা হবে এখন থেকে ১০০ বছর পরে৤ ইতিমধ্যে ২য় এবং ৩য় প্রজন্মের লিখন কারিগরিতে অভ্যস্ত হতে হবে৤ কারণ একটি প্রজন্মের লিখনের সঙ্গে পরবর্তী লিখনের উত্তরপুরুষ সম্পর্ক আছে৤
দেখা যাক এক-এক প্রজন্মে লিখন কেমন হবে?

প্রজন্ম
যুক্তবর্ণ
উদাহরণ
লিখন
প্রচলন কাল
প্রথম প্রজন্ম
দলাপাকানো যুক্তবর্ণ
সম্মান সঙ্কট
খর্জুর
লেখা তিন তলা
চালু রীতি





দ্বিতীয় প্রজন্ম
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ
সম্মান সঙ্কট
খর্জুর
লেখা তিন তলা
নতুন আগত রীতি





তৃতীয় প্রজন্ম
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ
ত্‍রীতীয়
প্‍রজন্ম
খ৒জুর
লেখা দুই তলা
নতুন আগত রীতি ৫০ বছর পরে





চতুর্থ প্রজন্ম
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ
দ্ব্‍ইত্‍ইয় প্‍রজন্‍ম
খ৒জ্‍উর
লেখা এক তলা
নতুন আগত রীতি ১০০ বছর পরে

      এসব লেখা দেখে এখন আঁতকে যেতে হয়, ১০০ বছর পরে তা বরং বরণীয় মনে হবে৤ ১৯৩৫-এ লাইনো টাইপ চালু হবার কালে যেমন যুক্তবর্ণের দলা ছাড়ানোর ব্যবস্থা দেখে এমনি ভয় হয়েছিল৤ কিন্তু সেটাই ছিল সঠিক লিখন৤ পরে আর না এগিয়ে গোয়ালের গরু গোয়ালে ফিরে এসেছে৤ তার কারণ ব্যবসায়ে লাভ বৃদ্ধি, আর এদিকে যে ভাষার সমৃদ্ধি নষ্ট হচ্ছে তার দিকে নজর নেই কেন?  






শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৮

অহনলিপি ও মোবাইল ফোন

অহনলিপি ও মোবাইল ফোন




বিনামূল্যে ফন্ট ডাউনলোড লিংক--
অহনলিপি-বাংলা১৪ ইউনিকোড ফন্ট প্যাকেজ ডাউনলোড লিংক:  

অথবা 

https://sites.google.com/site/ahanlipi/ 






ডাউনলোড করা এই ইউনিকোড ফন্ট প্যাকেজের মধ্যে আছে ইউনিকোড ফন্ট(কম্পিউটারে লেখার হরফসমূহ) AhanLipi-Bangla14.ttf , তার উপরে ক্লিক করলে ফন্ট ইনস্টল হয়ে যাবে৤ সঙ্গে কিবোর্ড(setup.exe) দেওয়া আছে৤ তাতে ক্লিক করলে কিবোর্ড ইনস্টল হয়ে যাবে৤ কিবোর্ড দিয়ে সহজে লিখতে পারবেন৤ 

 যুক্তবর্ণ স্বচ্ছ, সহজ৤ সঙ্গে কিবোর্ডের নক্সা দেওয়া আছে৤ 


অন্যান্য ফন্টও ডাউনলোড করে নিন৤ 


এই ফন্ট না হলে লেখার উদ্দেশ্য বোঝা যাবে না৤ 



অহনলিপি ও মোবাইল ফোন



অহনলিপি ও মোবাইল ফোন
মনোজকুমার দ. গিরিশ

          সাধারণ মোবাইল ফোন যেটা আমরা ব্যবহার করি, তাতে দশটি চাবি, তথা ‘কি’ হল দশটি৤ এতে ডায়াল করার জন্য ‘কি’ টিপে টিপে দশটি সংখ্যা লেখা যায়, এবং ইংরেজির বড় হাত, ছোটো হাত ২৬টি হরফ লেখা যায়৤ তাই এক-একটি কি-তে থাকে একাধিক ইংরেজি হরফ৤ ২ থেকে ৯ অবধি সংখ্যায় থাকে A থেকে Z হরফ৤ আর সংখ্যা  ১-এ থাকে বিশেষ নানা চিহ্ন৤ শূন্য(০)-তে থাকে বিবিধ সুবিধা, এছাড়া, আরও দুটি কি থাকে ০-এর দুপাশে সেখানেও নানা চিহ্ন ইত্যাদি থাকে৤
২=হরফ - abc
৩=হরফ -def
৪=হরফ -ghi
৫=হরফ -jkl
৬=হরফ -mno
৭=হরফ -pqrs
৮=হরফ -tuv
৯=হরফ -wxyz
          সব চেয় বেশি চাপ পড়ে সংখ্যা ৭-এর উপরে, কারণ সেখানে হরফ S আছে৤ S-দিয়ে নামের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি৤
          এখানে Normal প্লেন, এবং Shift প্লেন ব্যবহার করা হয়৤ অর্থাৎ যথাক্রমে স্মল লেটার এবং  ক্যাপিটাল লেটার টাইপ করার ব্যবস্থা৤
          উন্নত আধুনিক ফোনে আছে প্রতিটি ইংরেজি হরফের জন্য ‘কি’৤ তাই তার ব্যবহারিক সুবিধা অনেক বেশি৤

          কম্পিউটারের ইংরেজি কি-বোর্ডে সাধরণভাবে Normal প্লেন, এবং Shift প্লেন ব্যবহার করা হয়৤ অর্থাৎ যথাক্রমে স্মল লেটার এবং ক্যাপিটাল লেটার টাইপ করার ব্যবস্থা৤ ইংরেজি হরফ টাইপ করার জন্যই এই ইংরেজি কিবোর্ড৤ কিন্তু বাংলায় আছে অনেক বেশি হরফ ১১+৪০=৫১টি, আর স্বরচিহ্ন বা কারচিহ্ন, এবং ফলাচিহ্ন৤ হরফ ও চিহ্নাদি মিলে মোট অন্তত ৬৯টি৤ এ ছাড়া আছে সংখ্যা দশটি৤
          তাই তার কি/চাবি সংখ্যা বেশি হলে সুবিধে৤ নয়তো তাকে ফুটবল খেলতে হয়, ভলিবল/গল্‌ফ কোর্টের অল্প পরিসরে৤
          বাংলা লেখার পরিসর বড় এবং যথাযথ করার জন্য অহনলিপি-বাংলা১৪ ইউনিকোড ফন্টে (AhanLipi-Bangla14.ttf--এটি ইউনিকোড ফন্ট) কি-প্রেস আছে ১৮৮টি৤
          নিচ থেকে-- প্রথম সারি- ১০
                        দ্বিতীয় সারি- ১১
                        তৃতীয় সারি- ১৩
                        চতুর্থ সারি- ১৩
          এইমোট= ১০+১১+১৩+১৩=৪৭টি চাবি৤
          এগুলিকে চারটি প্লেনে ব্যবহার করা হয়েছে--(১)Normal plane, 
(২)Shift plane,
                                  
(৩)AltGr. plane,  আর 
(৪)AltGr.+Shift plane,
          এতে কি-প্রেস পাওয়া যাচ্ছে-- একটি শিফ্‌টে ৪৭, তাই চারটি শিফ্‌টে ৪৭×৪=১৮৮টি৤
          ইংরেজিতে ৯৪ কি-প্রেসের সুবিধা, আর বাংলায় পাওয়া যাবে ইংরেজির দ্বিগুণ ১৮৮ কি-প্রেসের সুবিধা৤ বাংলা কিবোর্ডের এত বেশি সংখ্যক কি-প্রেসের পরিসর, নানা সুবিধাজনক কাজে লাগানো হয়েছে৤ 
          অহনলিপি-বাংলা১৪ ইউনিকোড ফন্টের প্যাকেজে আছে ফন্ট, কি-বোর্ড, এবং অন্যান্য অনেক ফাইল৤ তার ভিতরে AhanLipi-Bangla14 BIBARAN.doc নামে একটি ফাইল আছে, যেখানে নানা বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, সেটি দেখলে এর বৈশিষ্ট্য অনুধাবন করা যাবে৤
          এখানে একটি কথা বলা দরকার যে, ‘অহনলিপি’ হল দ্বিতীয় প্রজন্মের লিখন কারগরি সমন্বিত ফন্ট৤ বাংলা লিখনের সবচেয়ে বড় সংকট হল-- সমস্যা সংকুল যুক্তবর্ণের দলা পাকানো মণ্ড হরফ৤ এই দ্বিতীয় প্রজন্মের লিখন কারগরিতে সেই সংকট দূর করা হয়েছে৤ সমস্যা সংকুল যুক্তবর্ণের দলা পাকানো মণ্ড হরফ স্বচ্ছ করা হয়েছে৤ তাই বাংলা পড়া, এবং কম্পিউটারে বাংলা লেখা অনায়াস হয়েছে৤ আধুনিক যুগের লিখনপ্রযুক্তির দিকে নজর রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে৤ বাংলা হরফ পরিচয় হলেই এখন বাংলা পড়া যাবে, এবং কম্পিউটারে বাংলা লেখা যাবে৤ এর কিবোর্ড এত সহজ যে, দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্র, কিবোর্ড কিছুমাত্র না জেনে অনেক কিছু লিখতে পেরেছে৤ অর্থাৎ মনে বাংলা পরিবেশ রক্ষা করে, বাংলা করে ভাবতে হবে৤
          এই ফন্ট এবং কিবোর্ডের সমন্বিত ব্যবস্থায় বাংলা লিখন এগিয়েছে তৃতীয় প্রজন্ম এবং শেষে চূড়ান্তভাবে চতুর্থ প্রজন্ম অবধি৤ শেষ তথা ৪র্থ পর্যায়ে হরফ কেবল পাশপাশি পরপর বসিয়ে বাংলা লেখা যাবে৤ তবে তা এখুনি প্রয়োগ করা হবে না, তার জন্য দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি দরকার৤ তাই তৃতীয় প্রজন্মের লিখন কারিগরি ব্যবহার হবে ৫০ বছর পরে, এবং চতুর্থ প্রজন্মের লিখন কারিগরি ব্যবহার হবে ১০০ বছর পরে৤ ইতিমধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের লিখনপ্রযুক্তি সম্পূর্ণ আত্মস্থ হোক৤
           দ্বিতীয় প্রজন্মের এই সরল লিখন প্রযুক্তিতে, বাংলা লেখা ইংরেজি লেখাকে ছাপিয়ে গেছে৤
           যদি মোবাইলেও-- ল্যাপটপ, বা কম্পিউটারের মতো কিবোর্ডে চারটি শিফ্‌ট বা প্লেন ব্যবহার করা যায়, তবে মোবাইলেও এই ফন্টে লেখালিখি  করা যাবে৤ মোবাইলে কম্পিউটারের মতো এতখানি বৃহৎ পরিসরে কাজ হয় না, তার পরিসর ছোটোই, গল্‌ফ বা টেনিস কোর্টের মতো সীমিত তার পরিসর, আর কম্পিউটারের পরিসর বিশাল ফুটবল মাঠের মতো৤ যদি চারটি শিফ্‌ট বা প্লেন মোবাইলে ব্যবহার করার সুযোগ হয়, তখন এই দ্বিতীয় প্রজন্মের ফন্টের সুবিধা সেখানে পাওয়া যাবে৤
          আসলে এই ১৮৮টি কি-প্রেস ব্যবহার করে, ২য় প্রজন্ম, ৩য় প্রজন্ম এবং চূড়ান্তভাবে ৪র্থ প্রজন্মের লিখন কারিগরি-- এই ফন্টটি এবং এই একই কিবোর্ড ব্যবহার করে করা যাবে৤ ভবিষ্যৎ মাতৃত্ব তো এই নবীনার মধ্যেই জেনেটিক উপায়ে রক্ষিত আছে৤

সংক্ষেপে --

দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলা অগ্রগত ইউনিকোড ফন্ট প্যাকেজ ফ্রি-ডাউনলোড লিংক: https://sites.google.com/site/ahanlipi/
এখানে লেখার ফন্ট হল AhanLipi-Bagla14.ttf -এর উপরে ক্লিক করলে কম্পিউটারে ফন্ট ইনস্টল হয়ে যাবে(এটি অগ্রগত দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলা  ইউনিকোড ফন্ট)৤
setup.exe  হল কিবোর্ড, এর উপরে ক্লিক করলে কিবোর্ড ইনস্টল হবে৤ ফলে
স্ক্রিনের ডানদিকে নিচে  ‘বাং/ENG’  লেখা দেখাবে৤ যেটা চাই সেটা ক্লিক করুন৤
লেখার সময়ে ফন্ট-বক্স থেকে AhanLipi-Bagla14.ttf বেছে নিন৤
কিবোর্ড ফাইলে কিবোর্ডের নক্সা/গঠন দেওয়া আছে৤  
AhanLipi-Bangla14 BIBARAN.doc ফাইলে নানাবিধ সমস্যার সমাধান দেওয়া আছে৤ সমস্যায় পড়লে সেগুলি দেখে সমাধান করে নিন৤
       কিবোর্ড এত সহজ যে, কিছু না জেনেই মনে হয় বেশ কিছু কথা লিখতে পারবেন-- কলা, মজা, হরফ, ভরসা, বনময়, পরিচয়, গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা৤ শুধু বাংলা করে ভাবতে হবে, তাহলেই হবে৤ 
       এখানে আছে ফন্ট, আছে কিবোর্ড, এবং আছে অন্য একাধিক ফাইল, যা পড়ে সব রকম সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে৤ আর নইলে তো ফাইলের ভিতরে দেওয়া আছে ইমেল ঠিকানা-- আছে তো বাড়ানো ইলেকট্রনিক হাত, বার্তা পাঠানো যাবে দিবারাত৤ যখন সুবিধে পাঠান আপনার ই-মেলের(ইলেকট্রনিক মেল) হাত৤